আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি ফল জারা লেবু। আকারে বড় এবং মাংসল এই বিশেষ লেবুটি সালাদ হিসেবে ভোজনরসিকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে সাধারণ যেকোনো লেবুর তুলনায় এর দাম ও আকার শুনলে যে কেউ অবাক হতে পারেন। শীতকাল বা অফসিজনে একেকটি জারা লেবু এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। সে হিসেবে এক হালি লেবুর দাম গিয়ে পৌঁছায় তিন থেকে চার হাজার, এমনকি কখনো কখনো তা পাঁচ হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।
সাধারণত প্রতিটি জারা লেবুর ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই লেবুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর ওপরের সবুজ আবরণ ফেলে দিয়ে ভেতরের পুরু সাদা মাংসল অংশটি সরাসরি সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। এটি হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের এবং প্রচুর ভিটামিন সি-তে ভরপুর। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসীদের কাছেও এর ব্যাপক কদর রয়েছে। বিশেষ করে লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে জারা লেবুর প্রচুর চাহিদা থাকায় এটি নিয়মিত ওইসব দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
সিলেটের জৈন্তাপুরসহ অন্যান্য পাহাড়ি অঞ্চলগুলো এই লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে বিবেচিত হয়। এই গাছে সারাবছরই ফুল ও ফল আসে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় আধুনিক পদ্ধতিতে এখানকার কৃষকরা এই লেবুর চাষাবাদ করছেন। খরা মৌসুমে পানি সেচের জন্য কৃষকদের সরকারিভাবে সোলার প্যানেলচালিত ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি প্রদান করা হয়েছে, যা সেচ কার্যক্রমকে অনেক সহজ করেছে।
স্থানীয় বাগান মালিকরা জানান, কলম পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই জারা লেবুর চারা তৈরি করা সম্ভব। রোপণের আগে গর্ত করে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব ও রাসায়নিক সার দিয়ে মাটি ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে হয়। চার ফুট উচ্চতার একটি চারা রোপণ করার মাত্র এক বছরের মধ্যেই আশানুরূপ ফলন পাওয়া শুরু হয়। সঠিক পরিচর্যা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য জারা লেবুর চাষ আরও লাভজনক একটি পেশায় পরিণত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন