সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত তেরো লাখ একর আয়তনের এক সুবিশাল গরুর খামার ব্যবস্থাপনা বিশ্বজুড়ে খামারিদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এত বড় উন্মুক্ত প্রান্তরে পশুগুলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য জিপিএস ট্র্যাকার থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্তীর্ণ চারণভূমিতে অবাধে বিচরণ করা এই খামারে মাংস এবং দুধ উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা কৌশল অবলম্বন করা হয়।
নির্দিষ্ট কোনো আবদ্ধ ঘরে আটকে না রেখে প্রাকৃতিক পরিবেশে গরুগুলোকে নিজেদের মতো চলাফেরা করতে দেওয়া হয়। বিশাল এই খামার পায়ে হেঁটে বা সাধারণ উপায়ে তদারকি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রতিটি গরুর কানে বিশেষ জিপিএস যন্ত্র সংযুক্ত থাকায় কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে বা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে মালিকদের কাছে বার্তা পৌঁছে যায়।
তখন পাইলটরা ড্রোন বা হেলিকপ্টারের সাহায্যে অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়ে গিয়ে পুরো পালটিকে পুনরায় নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরে ফিরিয়ে আনেন। হেলিকপ্টার চালকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করেন। খাদ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নেওয়া হয় বিশেষ সতর্কতা ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ।
বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মিশ্রণ স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে সঠিক অনুপাতে প্রস্তুত করে প্রতিদিন সরবরাহ করা হয়, কারণ দুধ ও মাংসের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন খাদ্যের মানের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। দুধের খামারে লাভজনক ফল পেতে কেবল পশুর সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং উন্নত ব্যবস্থাপনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
খামারের আকার যেমনই হোক না কেন, দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য নিখুঁত পরিকল্পনা ও সঠিক জাত নির্বাচনকে আসল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক এসব কৌশল ও সুষম খাদ্যের ধারণা অনুসরণ করে দেশীয় খামারিরাও লাভবান হতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন