সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জলাশয় সংস্কার করে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন একদল উদ্যোক্তা। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা আয়তনের এসব পুকুরে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ করে তাঁরা দুই কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বাজারের দামি ও মানহীন খাদ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব প্রযুক্তিতে মাছের পুষ্টিকর খাবার তৈরি করেই মূলত এই বিশাল সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
অথচ একসময় এই পুকুরগুলো কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় পুরোপুরি পরিত্যক্ত ছিল। খামারিরা জানান, বাজার থেকে কেনা খাদ্যে ৪০ শতাংশ প্রোটিন লেখা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। তাই তাঁরা নিজেরাই শুঁটকির ফিশ মিল, রাইস পলিশ, ময়দা ও গোবর মিশিয়ে মানসম্মত ভাসমান খাবার তৈরি করছেন। এর ফলে খাবারে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ প্রোটিন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও অনেক কমে এসেছে। বর্তমানে এই বৃহৎ মৎস্য প্রকল্পের অধীনে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী নিয়মিত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
গত ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই প্রজেক্ট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠে ২০২৫ সালের হিসাব শেষে তাঁরা প্রায় এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। খামারে বর্তমানে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, সিলভার কার্প, পাঙ্গাশ, শিং, মাগুর, পাবদা ও গুলশাসহ নানা জাতের মাছ নিবিড় পরিচর্যায় বড় করা হচ্ছে।
নোয়াখালীর চৌমুহনীসহ স্থানীয় বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি এখানকার মাছ এখন রাজধানী ঢাকাতেও নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। নিজেদের পুকুরের চাহিদার বাইরেও বছরে প্রায় চারশ মণ রেণু উৎপাদন করে অন্যান্য প্রান্তিক খামারিদের কাছে বিক্রি করছেন তাঁরা। আগামী ২০২৬ সালের পর এখানকার উৎপাদিত মানসম্মত মাছ বিদেশের বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন