ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০৯:৪৬ এএম
জুলাই জাতীয় সনদের বেশ কয়েকটি ‘নোট অব ডিসেন্টের’ (আপত্তি) ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব নোট অব ডিসেন্ট সরাসরি গণভোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, গণভোটে ফলাফল ইতিবাচক হলে এই নোট অব ডিসেন্টগুলো কার্যকারিতা হারাবে।
এসব আপত্তির বেশিরভাগই সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত।জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ সই হয় গত ১৭ অক্টোবর, যেখানে ৮৪টি সুপারিশ ছিল।
জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর আপত্তি বিবেচনায় না নিয়ে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫ জারি করে এবং ২৬ নভেম্বর জারি হয় গণভোট আধ্যাদেশ-২০২৫।
গণভোট অধ্যাদেশে সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টি বিবেচনায় এসেছে, যার মধ্যে ১৮টিতে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি রয়েছে।গণভোটের মধ্যে পড়েছে বিএনপির যেসব গুরুত্বপূর্ণ নোট অব ডিসেন্ট:সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন।তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।উচ্চকক্ষ গঠন (পিআর)।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তথা ন্যায়পাল নিয়োগ, সরকারি কর্ম কমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগ।এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রে গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল এলে নোট অব ডিসেন্টগুলো কার্যকর হবে না, কারণ গণভোটেই এদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যাবে।
তবে, বিএনপি চাইলে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া আরও ১২টি সংস্কার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কোন ধরনের সংস্কার করতে চায় তা উল্লেখ করে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে এ কাজটি তারা করতে পারবে।
জামায়াতে ইসলামীর আপত্তি জানানো একটি সংস্কার প্রস্তাবও গণভোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দলটির অন্যান্য আপত্তি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন