বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

মসজিদ নিয়ে মিথ্যা প্রচারণার প্রতিবাদে মুসল্লিদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

মসজিদ নিয়ে মিথ্যা প্রচারণার প্রতিবাদে মুসল্লিদের মানববন্ধন

নীলফামারীতে মুসল্লিদের মানববন্ধন। ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীতে মসজিদ ভাঙা ও চুরির মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে মসজিদের শত শত মুসল্লি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশমুড়ী পাইলাঙা এলাকায় ২০১৯ সালে স্থানীয়দের অর্থায়নে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর দাতা আইয়ুব আলী ৪ শতাংশ জমি ওয়াকফনামা দলিলের মাধ্যমে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিলেও মসজিদটি মূলত তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের অধিকৃত জমিতে নির্মিত হয়েছিল। 

যা ধর্মীয় বিধান ও আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এছাড়া মসজিদের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমিটি কমিটির দখলে না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুনভাবে সংগৃহীত বিএস ৩২১৪ নং দাগে ৯ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে সেই জমিতেই মসজিদের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

আন্দোলনরত মুসল্লিদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মসজিদ ভাঙা ও চুরির মিথ্যা তথ্য ফেসবুকসহ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের দাবি, মসজিদের উন্নয়ন ও জায়গা সম্প্রসারণের বিষয়টি ধর্মীয় বিধান মেনে এবং কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অপপ্রচার এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টির একটি জঘন্য অপচেষ্টা বলে তারা মনে করেন।

মানববন্ধনে মুসল্লিরা আরও জানান, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি স্থানীয় কয়েকটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপপ্রচারকারী ও তাদের মদদদাতাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

প্রশাসনের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই কর্মসূচি থেকে। দাবির মধ্যে রয়েছে অপপ্রচারকারীদের বিচার, ফেসবুক থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য অপসারণ এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে প্রকৃত অবস্থা জানিয়ে একটি সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ করা হয়। মানববন্ধন শেষে মুসল্লিদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।