শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ, ৩ হাজার মুরগির মৃ‍‍`ত্যু

রবিউল এহ্সান রিপন

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:২৬ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ, ৩ হাজার মুরগির মৃ‍‍`ত্যু

ছবি-দিনাজপুর টিভি

ঠাকুরগাঁওয়ে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস প্রতিহিংসার বলি হয়েছে একটি পোল্ট্রি খামারের হাজার হাজার মুরগি। প্রতিবেশীর দেওয়া বিষ প্রয়োগের কারণে একটি খামারের প্রায় তিন হাজার বয়লার মুরগির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের ভেলারহাট খেকিডাঙ্গা গ্রামে ‍‍`আবু সাঈদ পোল্ট্রি ফার্ম‍‍`-এ এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। 

খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।খামারের মালিক আবু সাঈদ জানান, তিনি ভেলারহাট খেকিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেনের কাছ থেকে তিনটি শেড ভাড়া নিয়ে তিন বছর মেয়াদি একটি বয়লার মুরগির খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। 

খামারটিতে বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার বয়লার মুরগি পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু সোমবার ভোরে প্রতিবেশী তোফাজ্জল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম অতর্কিতে খামারে প্রবেশ করেন এবং পুরো খামারে শক্তিশালী কীটনাশক বিষ ছিটিয়ে দেন। বিষের প্রতিক্রিয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই তিন হাজার মুরগি ছটফট করে মারা যায়।

আবু সাঈদ অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন, প্রতিবেশী তোফাজ্জল বা তাঁর স্ত্রীর সাথে আগে থেকে কোনো ধরণের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। কেন তারা এমন অমানবিক কাজ করে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি করলেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এই খামারি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি সকালের দিকে তোফাজ্জল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীকে আবু সাঈদের পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ করতে দেখেন। তিনি প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে এবং তাকে দেখতে পেয়েই তোফাজ্জল ও মর্জিনা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আনোয়ার হোসেনের মতে, যারা নিরীহ পশুপাখির সাথে এমন আচরণ করতে পারে, তারা মানসিকভাবে সুস্থ হতে পারে না।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তোফাজ্জল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মুরগি হত্যার বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।