রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে চা শ্রমিক পরিবারের ১৪টি গরু-মহিষের মৃ‍‍`ত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে চা শ্রমিক পরিবারের ১৪টি গরু-মহিষের মৃ‍‍`ত্যু

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক আকস্মিক ও শক্তিশালী বজ্রপাতের ঘটনায় চা-শ্রমিক পরিবারের অন্তত ১৪টি সাধারণ গরু এবং একটি বড় মহিষের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুчай জ্বালাই এবং পাথরটিলা গ্রামে পৃথক দুটি স্থানে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। 

চারণভূমিতে ঘাস খাওয়ার সময় হঠাৎ হওয়া এই বজ্রপাতে গবাদিপশুগুলো ঘটনাস্থলেই মারা গেলে পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশজুড়ে বজ্রপাতের এমন আকস্মিক ও মারাত্মক বৃদ্ধি গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে যে জ্বালাই এলাকার একটি খোলা মাঠে চড়তে থাকা একদল গরুর ওপর হঠাৎ তীব্র বজ্রপাত আঘাত হানলে মুহূর্তের মধ্যে ১৪টি গরু প্রাণ হারায়। 

প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তী পাথরটিলা গ্রামে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনায় আব্দুল গফফার নামের এক কৃষকের মূল্যবান মহিষটি মারা যায়। গবাদিপশুগুলো হারিয়ে চা-বাগানের অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এই অসহায় পরিবারগুলোকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে জরুরি আর্থিক অনুদান ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের বড় দাবি।

এই বজ্রপাতে চারটি গরু হারানো চা-শ্রমিক সুমন গড় এবং তিনটি গরু হারানো মিতালি রাজভর কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান যে এই পশুপালই ছিল তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র শেষ সম্বল। ঘটনার পর স্থানীয় গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।