বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার গ্রেপ্তার ৪

তানভীর হাসান তানু

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার গ্রেপ্তার ৪

ছবি: দিনাজপুর টিভি

ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ফার্মেসি থেকে চুরি যাওয়া আনুমানিক ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আন্তঃবিভাগীয় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্য এবং তাদের কাছ থেকে চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও পরিবহনকারী গাড়িটি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কুকিবাজিত গ্রামের মো. রাজু মিয়া, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইর বাকপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পশ্চিম পুড়াদিয়া গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন এবং চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকার। পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ওষুধের দোকানে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় দোকান থেকে বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নিয়মিত মামলা রুজু করে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজু মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিল্লাল হোসেনের সম্পৃক্ততা শনাক্তের পর বগুড়া, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে পিকআপসহ চক্রের ওই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে যে চুরি করা ওষুধগুলো গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে গোবিন্দগঞ্জ বাজার ও বসতবাড়িতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে শিখরকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি মজুত করে রাখা সমস্ত চোরাই ওষুধ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত এসব মালামাল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শনাক্ত করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ওষুধ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চুরির সাথে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো পৃষ্ঠপোষক বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।