বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

গুলশান লেকে ভাসমান সবজি চাষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

গুলশান লেকে ভাসমান সবজি চাষ

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার গুলশান-বনানী লেকের বুকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল কাজে লাগিয়ে অভিনব ভাসমান সবজি ক্ষেত গড়ে তুলেছেন কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা। দূষিত ও কালচে পানির ওপর ভেসে থাকা প্লাস্টিকের স্তূপকে দূর থেকে সাধারণ আবর্জনা মনে হলেও কাছে গেলে দেখা যায় এক সবুজ দৃশ্য। সেখানে মাটির বদলে পানির ওপরেই ফলানো হচ্ছে কচু, কচুর লতি, পুঁইশাক ও লাল শাকসহ নানা পদের টাটকা সবজি।

ঢাকার জলাশয়গুলো যেখানে সচরাচর দখল ও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়, সেখানে এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ বিপরীত এক উদাহরণ তৈরি করেছে। পানি দখল না করে লেকের ওপর ভেসে থাকা এই ছোট ছোট কৃষিক্ষেত তৈরি করেছেন কড়াইলের বাসিন্দা সাত্তার, রুবেল, নূর, আরিফা ও আলীসহ কয়েকজন উদ্যোগী মানুষ।

তারা লেকের পাড়ের অব্যবহৃত জায়গা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে এই চাষাবাদ পরিচালনা করছেন। কৃষিকাজের এই ভাসমান বেড তৈরির কৌশলটিও বেশ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে বাঁশের কাঠামোর ওপর সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের খালি বোতল এবং নারকেলের ছোবড়া শক্ত সুতা দিয়ে গিঁট বেঁধে একটি মজবুত ভাসমান পাটাতন তৈরি করা হয়। এরপর সেই পাটাতনের ওপর মাটির একটি হালকা আস্তরণ দিয়ে তার ওপর রোপণ করা হয় সবজির চারা। শুধু শাকসবজি নয়, লেকের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতেও তারা উদ্যোগ নিয়েছেন।

ভাসমান বেডে রোপণ করা হয়েছে কলাবতীসহ নানা ধরনের শোভাবর্ধক গাছপালা। এর ফলে একদিকে যেমন লেকের পরিবেশের দৃশ্যপট বদলে গেছে, অন্যদিকে পানিতে ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যও কার্যকরভাবে পুনর্ব্যবহারের আওতায় এসেছে।

স্থানীয়দের মতে, আগে লেকের পানি অতিরিক্ত দূষিত থাকায় নামলে শরীরে চুলকানি হতো এবং চারপাশ নোংরা থাকত, যা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। এই ভাসমান ক্ষেত থেকে উৎপাদিত রাসায়নিকমুক্ত বিষহীন সবজি এখন স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে।

উদ্যোক্তারা নিজেদের খাবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কখনো নামমাত্র মূল্যে আবার কখনো প্রতিবেশীদের মধ্যে বিনামূল্যে এই তাজা সবজি বিলিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি চাষের জায়গায় থাকা কাঁঠাল গাছে ফল এলে তা-ও সবাই মিলে ভাগ করে উপভোগ করছেন।

একসময় যে প্লাস্টিকের বোতল লেকের জলজ পরিবেশ বিনষ্ট করত, সেই বর্জ্যই এখন সবুজ ফসলের অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার অন্যান্য সংকটাপন্ন জলাশয়েও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।