ফাহিম হোসেন রিজু
জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। অধিক লাভের আশায় কৃষকরা গম পরিপক্ব হওয়ার আগেই কাঁচা গাছ কেটে পশুখাদ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন দানাদার খাদ্যশস্য গমের উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না।
সরেজমিনে উপজেলার রানীগঞ্জ, বলোগাড়ী, কানাগাড়ী ও ডুগডুগি বাজারে দেখা যায়, আঁটি বেঁধে বিক্রি হচ্ছে সবুজ গম গাছ। প্রতি আঁটি কাঁচা ঘাস হিসেবে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, এক বিঘা জমির গম পাকিয়ে বিক্রি করলে যেখানে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়, সেখানে কাঁচা গাছ বিক্রি করলে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ হাজার টাকারও বেশি। এছাড়া গম পাকতে যে অতিরিক্ত দুই মাস সময় লাগে, সেই সময়ে জমিতে অন্য ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “গম পাকানোর চেয়ে কাঁচা অবস্থায় বিক্রি করাই লাভজনক। খরচ কম, টাকাও দ্রুত পাওয়া যায়।”উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত মৌসুমে ১১০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০ হেক্টরে। ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি এবং পশুখাদ্য হিসেবে গমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ভুট্টা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা সেদিকে ঝুঁকছেন। তবে গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং পশুখাদ্য হিসেবে এর ব্যবহার রোধে কৃষকদের সচেতন করার কাজ চলছে।