মার্চ ২৯, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
দিনাজপুরের কাহারোলে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাতে উপজেলার ইটভাটাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ২৮ মার্চ শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে ইট তৈরির জন্য প্রস্তুত রাখা লক্ষ লক্ষ কাঁচা ইট বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন ভাটা মালিকরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাহারোলের ৬টি ইউনিয়নে বর্তমানে ৮টি অনুমোদিত ইটভাটা রয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে এই প্রতিটি ভাটায় কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে খোলা আকাশে শুকানোর জন্য রাখা কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টির পানিতে ভিজে কাদা হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় ইটের স্তূপ ধসে পড়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের উত্তর নওগাঁ (বীরগঞ্জ-পীরগঞ্জ) সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স এম.কে ব্রিক্সে (এমকেবি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। মাঠজুড়ে সাজিয়ে রাখা কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টির পানিতে গলে কাদা হয়ে গেছে।
স্তূপ করে রাখা ইটের ওপর পানি জমে থাকায় সেগুলো ভেঙে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট মেসার্স এম.কে ব্রিক্সে মালিক নবাব আলী মুঠোফোনে জানান, "হঠাৎ এই দুর্যোগে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। এত বড় আর্থিক ধাক্কা কাটিয়ে আগামী বছর ভাটা চালু রাখা আমার জন্য চরম কষ্টকর হয়ে পড়বে।
ইটভাটা শ্রমিকরা জানান, গত কয়েকদিনের কড়া রোদে ইটগুলো পোড়ানোর জন্য প্রায় তৈরি হয়ে এসেছিল। কিন্তু মাত্র আধা ঘণ্টার ঝড়-বৃষ্টিতে সব পরিশ্রম বৃথা গেল। কাহারোল উপজেলার অন্যান্য ইটভাটা মালিকদের মধ্যেও একই ধরনের হাহাকার লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে ইট উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং বাজারে ইটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন