সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে কৃষকদের উন্নয়নে পাট চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন

মোঃ আরিফ ইসলাম

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

বীরগঞ্জে কৃষকদের উন্নয়নে পাট চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন

বীরগঞ্জে পাট বীজ বিতরণ ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পাট চাষিদের ভাগ্য বদলাতে এবং সোনালী আঁশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। মূলত পাট শিল্প গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ জনপদে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত স্কিমের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বীজ বিতরণ কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করেন উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা তপন কুমার রায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন। 

তিনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার তালিকাভুক্ত মোট ২ হাজার ৬০০ জন প্রান্তিক পাট চাষীর মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাট বীজ বিতরণের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সুমা খাতুন পাটের অতীত ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, পাট আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

তিনি বর্তমান বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কৃষকরা যদি সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাট চাষে মনোযোগী হন, তবে তাদের বার্ষিক আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল কৃষকের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।ইউএনও আরও জানান যে, সরকার পাট চাষ সম্প্রসারণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসন সবসময় কৃষকদের কারিগরি ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান যে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের উন্নত বীজ সংকটে সহায়তা করা এবং তাদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে দক্ষ করে তোলা। বীরগঞ্জের মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে বলে স্থানীয় অভিজ্ঞ কৃষকরাও আশা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক কৃষকের হাতে বীজের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয় এবং চাষাবাদ সংক্রান্ত প্রাথমিক পরামর্শ প্রদান করা হয়।