এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
দিনাজপুরের বিরলে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে যুব ও নারী কৃষকদের নেতৃত্বে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত, স্বাস্থ্যসম্মত রান্না পদ্ধতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপজেলার ৩ নম্বর ধামইর ইউনিয়নের গিরিধরপুর গ্রামে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার করে পুষ্টি নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ (২৩-২৯ এপ্রিল-২০২৬) উপলক্ষে কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি, আলোচনা সভা ও ব্যবহারিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিমরান মোহাম্মদ সায়েক, রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার রুম্মান আকতার এবং বাংলাদেশ পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (বির্টান) এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ ছাদেকুল ইসলাম।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পার্থ জিময় সরকার, গেইন-এর প্রজেক্ট অ্যাসিস্টেন্ট সামিহা ইসরাত সিলভিয়া, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমঙ্গল রায়, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলীসহ কৃষি দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। ডাইভারসিফাইড রেজিলিয়েন্ট এগ্রিকালচার ফর ইমপ্রুভড ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটি (রেইনস) প্রকল্পের আওতায় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে।
এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার করে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্নার প্রক্রিয়া সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। এতে স্থানীয় যুব ও নারী কৃষকেরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। রেইনস প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে অর্থায়ন সহায়তা প্রদান করছে জিএএফএসপি (GAFSP) এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইফাদ (IFAD)। প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও এফএও (FAO)।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কার্যক্রমে সুষম খাদ্যাভ্যাস, খাদ্য বৈচিত্র্য এবং উন্নত খাদ্য ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষত নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কমিউনিটি-ভিত্তিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলায় এই কার্যক্রমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন