শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুরে ব্রি ধান ১০৮ এর বাম্পার ফলন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

মো: মামুনুর রশিদ

মে ১৭, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

দিনাজপুরে ব্রি ধান ১০৮ এর বাম্পার ফলন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর সদর উপজেলার কাউগাঁ প্রযুক্তি গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধানের নতুন জাত ‘ব্রি ধান-১০৮’-এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

একই সঙ্গে তিনি নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো দ্রুত দেশের সাধারণ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন।কাউগাঁ প্রযুক্তি গ্রামের প্রদর্শনী প্লট থেকে ১০ বর্গমিটার জমির ধান কাটার পর প্রতি হেক্টরে গড় ফলন পাওয়া গেছে ৬ দশমিক ৪২ টন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জানান, বর্তমান সরকার শত শত কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কৃষি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রকৃত কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবেন। 

পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলে খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের সেচের পানির সংকট দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত শস্য নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য এখানে একটি আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন সংসদ সদস্য।দেশজুড়ে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয় দিনাজপুরের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম। 

এতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ও এডিডি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।কাউগাঁ গ্রামের কৃষক জগদীশ চন্দ্র রায়ের জমিতে স্থাপিত প্রদর্শনী প্লটের এই শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে স্থানীয় শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন। স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল আলিম ও জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, ব্রি ধান-১০৮ জাতের ধানের রোগ সহনশীলতা ও চমৎকার শীষের গঠন দেখে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি অনুসরণ করলে এই নতুন জাতটি স্থানীয় কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।