রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুরের বিরলে পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে ঐতিহাসিক ধর্মপুর শালবন

সুবল রায়

জুন ৩০, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

দিনাজপুরের বিরলে পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে ঐতিহাসিক ধর্মপুর শালবন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত ঘেঁষা বিরল উপজেলার ঐতিহাসিক ধর্মপুর শালবনকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বন বিভাগ ও পর্যটন বিভাগ যৌথ উদ্যোগ নিলে এই বিশাল বনটি দ্রুত একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করতে পারে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাট ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে পুরোপুরি বদলে যাবে বিরল উপজেলার চেনা দৃশ্যপট।প্রায় ২ হাজার ৭০৬ হেক্টর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্যবাহী শালবনের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। মেঘের সঙ্গে শালবনের মিতালি, সারি সারি শাল গাছ এবং বনের গাছে গাছে হরেক রকমের পাখির কলকাকলি এখানে এক নৈসর্গিক পরিবেশের অবতারণা করে। এলাকার দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে ২০২১ সালে এই ধর্মপুর শালবনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তবে এই বনের সরকারি জায়গা অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধর্মপুর বিট কর্মকর্তা কনক সরকার জানান, রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির জোরে কিছু ভূমি বেদখল হলেও প্রশাসনের সহায়তার সে জমিগুলো উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বনের ৩২৫ একর বেদখল হওয়া জমির মধ্যে প্রায় ২১৯ একর উদ্ধার করে সামাজিক বনায়ন তৈরি করা হয়েছে এবং বাকি ১০৬ একর জমি উদ্ধারে তৎপরতা চলমান রয়েছে।

বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই ধর্মপুর শালবনকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সব ধরনের দাপ্তরিক কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। দ্রুতই সরকার এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করবে বলে স্থানীয় তরুণ ও সর্বস্তরের দিনাজপুরবাসী অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন।