বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

২৮ শে অক্টোবর ২০০৬, লগি-বৈঠা তাণ্ডবের বিচার চাইল বীরগঞ্জ জামায়াত

শাহিন ইসলাম

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৮:০২ পিএম

২৮ শে অক্টোবর ২০০৬, লগি-বৈঠা তাণ্ডবের বিচার চাইল বীরগঞ্জ জামায়াত

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ‘লগি-বৈঠা তাণ্ডব’-এর বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের এমপি প্রার্থী জনাব মো: মতিউর রহমান। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং এতে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল থেকে অংশগ্রহণকারীরা ‘২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার চাই’ এবং ‘লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচার করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের সেই আলোচিত রাজনৈতিক সহিংসতায় তাদের একাধিক নেতাকর্মী ঢাকায় নিহত হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। জামায়াতে ইসলামী প্রতিবছর এই দিনটিকে 'তাণ্ডব দিবস' বা 'নৃশংস হত্যাকাণ্ড' হিসেবে উল্লেখ করে দেশব্যাপী বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে।

মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-১ আসনের জামায়াতের এমপি প্রার্থী জনাব মো: মতিউর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে ২৮ অক্টোবরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইতিহাসের এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ে যারা প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর পার হলেও সেই হত্যাকারীরা বিচারের মুখোমুখি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। জনাব মতিউর রহমান ঘোষণা দেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখবে এবং বীরগঞ্জ-কাহারোলের জনগণকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বীরগঞ্জ পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দিনাজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর এটি জনাব মতিউর রহমানের অন্যতম একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থাকলেও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।