জুন ১৩, ২০২৬, ১০:১২ এএম
দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও অর্থ পাচারকারীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ভাবছেন দুষ্কৃতকারীরা বিচারের আওতার বাইরে থাকবে, তারা আসলে বাজারে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছেন এবং সত্যিকার অর্থে দেশের বিপক্ষে কাজ করছেন।
শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় তিনি এই মন্তব্য করেন।উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ বাস্তবায়নে স্থানীয় পরিষদ হলরুমে আয়োজিত `উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশনশোকেসিং প্রোগ্রাম`-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী।
সেখানে ব্যাংক পরিচালনায় রাজনীতিকরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক পরিচালনার আড়ালে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ ও কঠোর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত সময়ের অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরে ডাক্তার জাহিদ হোসেন বলেন, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি আমরা যখন দেশের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি, তখন প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বিশাল দায় মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে এবং ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে, তাদের সাথে বর্তমান সরকারের কোনো আপস নেই। তবে ব্যাংকের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের আইনগত অধিকার যাতে পূর্ণাঙ্গভাবে সুরক্ষিত থাকে, সেটি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।
অতীতের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রথম শৃঙ্খলা ও সুশাসন এসেছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে তৎকালীন সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে এই খাতে শৃঙ্খলা বজায় ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যখনই অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এসেছে, তখনই শেয়ার বাজার ও ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং ব্যাংক খালি হয়ে গেছে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল আজাদ, সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ এবং ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। দিনব্যাপী এই বিজ্ঞান প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৫টি স্টল অংশ নেয়। বিচারকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ঘোড়াঘাট কেসি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন