এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অথচ দিনের শুরুতেও এর মূল্য ছিল ৯৮ ডলারের উপরে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরে কেবল ব্রেন্ট ক্রুড নয়, বরং মার্কিন তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুড-এর দামও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার পর এই প্রথম তেলের বাজারে এমন বড় দরপতন দেখা গেল।আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের নিচে। তবে গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে সংঘাতের প্রভাবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সংকটের এক পর্যায়ে মাসের শেষ দিকে এই দাম সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার খবরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরায় শুক্রবার লেনদেনের শুরু থেকেই প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
প্যারিসের সিএসি (CAC) এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স (DAX)—উভয় বাজারের সূচকই দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই (FTSE) সূচকেও দিনশেষে কিছুটা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।এই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি মার্কিন বাজারও। লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটেই যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স সূচক এক দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটটি খুলে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন