মে ১৫, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৫ মে) সারা দেশে স্বর্ণের দোকানগুলোতে সবশেষ নির্ধারিত এই নতুন দর অনুযায়ী কেনাবেচা চলছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদার প্রেক্ষাপটে তারা এই মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে।
সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১১ টাকা। এর আগে এই ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। ফলে ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিপ্রতি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার সরবরাহ হ্রাস পাওয়া এবং গয়না তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছে ২৮ বার।
গত ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সে বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তনের ফলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা যেমন চাপের মুখে পড়ছেন, তেমনি সাধারণ ক্রেতারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।এর আগে গত ৬ মে স্বর্ণের দাম একবার বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যা এই ধাতুর দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
স্বর্ণের এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে বিয়ের মৌসুম বা উৎসবে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গয়না কেনা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জুয়েলারি শিল্পের সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দাম বাড়ার ফলে নতুন গয়না তৈরির ফরমায়েশ আগের চেয়ে কমেছে। তবে অনেকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের কয়েন বা বার কেনায় আগ্রহী হচ্ছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও সরাসরি পড়ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মূল্যবান ধাতুর এই বাজারদরে।
বাজুস জানিয়েছে, তারা সবসময়ই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করে। তবে বর্তমানে তেজাবি স্বর্ণের উচ্চমূল্য ব্যবসায়ীদের নতুন দর নির্ধারণে বাধ্য করছে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। আপাতত আজকের এই নতুন দরেই সারা দেশের বাজারগুলোতে মূল্যবান ধাতু দুটি কেনাবেচা অব্যাহত থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন