ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ০২:৩৭ এএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও শপথ গ্রহণ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর রফিক-জব্বার হল, পরিবহন চত্বর ও ছাত্রী হলগুলোর সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে জমায়েত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’গোলামী না আজাদী, আজাদী-আজাদী’তুমি কে আমি কে, হাদি-হাদি’ এবং ‘হাদি ভাই মরলো কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’—এমন সব তীব্র স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করেন।
শহীদ মিনারে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাকসুর নেতৃবৃন্দ তাঁদের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।আহসান লাবিব (সমাজসেবা সম্পাদক): আমরা অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। এবার আমরা প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ নেব। হাদি ভাইয়ের অসম্পূর্ণ কাজ আমরাই সম্পন্ন করব।মাজহারুল ইসলাম (সাধারণ সম্পাদক):ভারত ও আওয়ামী লীগ ভেবেছে হাদিকে হত্যার মাধ্যমে আমাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করবে। কিন্তু আমরা তিতুমীরের উত্তরসূরি। আধিপত্য বিরোধী যুদ্ধ চলবেই।
আবদুর রশিদ জিতু (ভিপি): ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কোনো আধিপত্যবাদী থাবা পড়তে দেব না। হাদির ফেলে যাওয়া কাজ সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।সমাবেশের শেষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শিক্ষার্থীরা দুহাত তুলে শপথ নেন যে, শরিফ ওসমান হাদি যে ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে এবং তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা রাজপথে অটল থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে গুলিতে আহত হওয়া ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর এই ‘শহীদি মৃত্যু’র খবর পৌঁছানোর পর থেকেই জাবি ক্যাম্পাসসহ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন