জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আন্দোলন এবং তিন দফা স্থগিতের পর আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা জবির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স, গোপন ভোটকক্ষ ও ভোটারতালিকাসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি থাকলেও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও নির্দেশনা: নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রক্টোরিয়াল বডির পাশাপাশি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হবেন। ভোট দিতে আসা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অবশ্যই বৈধ পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সঙ্গে রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের স্মার্ট ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সব ধরনের প্রচার ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা: নির্বাচনে প্রধান প্রধান প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কোবরা বলেন, “শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন প্রত্যাশা করি।”
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রচার জোরদার ছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করেছি।”অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এক বিবৃতিতে বলেন, “জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।” সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন জানিয়েছেন, সব পক্ষ নির্বাচন আয়োজনে ইতিবাচক এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে জবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যরকম এক আবেগ ও উত্তেজনা কাজ করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন দেশের ছাত্র রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন