জুন ১৪, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সময়মতো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন যে বর্তমানে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা খাতে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই বিশাল আইনি জটিলতার কারণেই মূলত নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
রোববার সকালে রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন যে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার রোধ করতে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিলসহ নানা যুগান্তকারী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের ইতিহাসে অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ হলেও শিক্ষার প্রকৃত ফল বা লার্নিং আউটকাম এখনও আশানুরূপ নয় বলে তিনি স্বীকার করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন যে আগামী বছরের মধ্যে সরকারিভাবে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
এছাড়া বিগত দিনে শিক্ষকদের নিয়মিত বদলি নিয়ে যে বিশাল দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল তা ভাঙতে এখন থেকে শিক্ষকদের বদলি সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত করা হবে। আগামী দুই বছর পর প্রয়োজনীয় পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে ক্লাসরুমে যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সামগ্রিকভাবে ২০২৭ সালের নতুন কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বা বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন