সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক ও ভিন্নধারার রূপালি পর্দায় একসময় নিয়মিত আলো ছড়িয়েছেন চিত্রনায়িকা পপি। মনকাড়া অভিনয়শৈলী ও উপস্থিতির জোরে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে টানা বহু বছর তিনি দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করেন। ১৯৭৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলনায় জন্ম নেওয়া সাদিকা পারভীন পপি পরিবারের ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়।

মায়ের অনুপ্রেরণায় তাঁর শোবিজে পথচলা শুরু। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই একটি জাতীয় ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এরপর ঢাকায় এসে লালমাটিয়া মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন এবং চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি নেন। খ্যাতিমান নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে `আমার ঘর আমার বেহেশত` চলচ্চিত্রে কাজ করলেও প্রেক্ষাগৃহে তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল মনতাজুর রহমান আকবরের `কুলি`।
অভিষেকের বছর অর্থাৎ ১৯৯৭ সালেই মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত চারটি চলচ্চিত্র। এর মধ্য দিয়ে পরিচালক ও দর্শকদের কাছে নির্ভরযোগ্য অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে `বিদ্রোহ চারিদিকে`, `কে আমার বাবা`, `লাল বাদশা` ও `ক্ষ্যাপা বাসু` চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মূলধারার রূপালি পর্দায় তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। চিত্রনায়ক রুবেলের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি প্রায় ২২টি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অংশ নিয়েছিলেন।

বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়েও নিজের অভিনয় প্রতিভার সুস্পষ্ট স্বাক্ষর রাখেন তিনি। `কারাগার` চলচ্চিত্রে এক সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নিজের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন। এর পরবর্তীতে `বিদ্রোহী পদ্মা` এবং `রানীকুঠির বাকী ইতিহাস` চলচ্চিত্রে তাঁর চরিত্রায়ন সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
২০০৮ সালে `মেঘের কোলে রোদ` চলচ্চিত্রের জন্য তিনি পুনরায় জাতীয় পুরস্কার পান। পরের বছর অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের `গঙ্গাযাত্রা` চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি তৃতীয়বারের মতো সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় সম্মাননা অর্জন করেন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক চাহিদার পাশাপাশি ব্যতিক্রমী গল্পে নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপন করার এক বিরল সক্ষমতা তাঁর ছিল। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রাঙ্গন ও যেকোনো প্রকাশ্য সামাজিক আয়োজন থেকে তিনি পুরোপুরি দূরে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভুয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে অভিনেত্রী নিজেই সেগুলোর সত্যতা নাকচ করে দেন। বর্তমানে তিনি স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়েই সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে সময় অতিবাহিত করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন