ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ০১:৫১ পিএম
ডায়াবেটিস ধরা পড়লে খাবার, ব্যায়াম, জীবনযাপন সবই পাল্টে যায়। কিন্তু অনেকেই নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা মাপেন না। সঠিক সময় ও নিয়মে সুগার টেস্ট করলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের সুগার বেশি, ইনসুলিন নেন অথবা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের দিনে কয়েকবার রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি। প্রয়োজন হলে দিনে ৬ বার সুগার টেস্ট করলে শরীরের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে বুঝে ফেলা যায়।
দৈনিক ৬ বার সুগার টেস্টের নিয়মাবলী নিম্নরূপ:
| টেস্টের সময় | উদ্দেশ্য |
| সকালে ঘুম থেকে উঠে | খালি পেটের মাত্রা বোঝা (ডিনার থেকে সকালের টেস্টের মাঝে ৮-১০ ঘণ্টা বিরতি দরকার)। |
| ব্রেকফাস্ট খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে | খাবারের পর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা বোঝা। |
| লাঞ্চের ৩০ মিনিট আগে | প্রি-মিল সুগার স্তর বোঝা। |
| লাঞ্চের ২ ঘণ্টা পরে | পোস্ট-মিল রিডিং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুব গুরুত্বপূর্ণ। |
| ডিনারের ৩০ মিনিট আগে | লাঞ্চের মতোই ডিনারের আগের মানটা জরুরি। |
| ডিনারের ২ ঘণ্টা পরে | দিনশেষের রক্তে শর্করার অবস্থা এই টেস্টে স্পষ্ট হয়। |
ঘন ঘন রক্তে শর্করা পরিমাপ তাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি:
যাদের রক্তে শর্করা অনেক বেশি ওঠানামা করে।
যারা ইনসুলিন নেন।
নতুন করে ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে এবং চিকিৎসা ঠিক করতে তদারকি প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস (জিশটেশনাল ডায়াবেটিস) হলে।
যদি সুগার নিয়মিত কন্ট্রোলে থাকে এবং ডাক্তারও বলেন, তাহলে প্রতি মাসে একবার ফাস্টিং ও র্যান্ডম টেস্ট করলেই যথেষ্ট।
প্রতিটি সময়ের সুগার লেভেল একটি ডায়েরিতে লিখে রাখার অভ্যাস করুন। এই নোটগুলো দিলে চিকিৎসক আপনার ডায়াবেটিসের পুরো চিত্রটি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। কোন খাবারে সুগার বাড়ছে বা কমছে, কোন সময়ে সমস্যা হচ্ছে—এসব সহজে ধরা পড়ে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ব্যায়ামের ঠিক আগে বা পরে সুগার কমে যেতে পারে—এ বিষয়ে সচেতন থাকুন। এছাড়াও, সঠিক সময় মেনে ওষুধ খাওয়াও জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন