বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইফতারে ডাবের পানি না আখের রস: কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

ইফতারে ডাবের পানি না আখের রস: কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

সেরা পানীয়র সন্ধানে

সারাদিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় শরীরে তাৎক্ষণিক প্রশান্তি ও তৃপ্তি এনে দেয়। ইফতারের টেবিলে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রাকৃতিক পানীয়র কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে প্রকৃতিতে গরমের আবহ বাড়তে থাকায় রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে ডাবের পানি এবং আখের রস। 

এই দুটি পানীয়ই অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হলেও ইফতারের শুরুতে কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী তা নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। পুষ্টিবিদদের মতে শরীরের প্রয়োজন এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পানীয়টি বেছে নেওয়া জরুরি।

আখের রস মূলত একটি প্রাকৃতিক শক্তির উৎস যা শরীরকে দ্রুত ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ তাৎক্ষণিক এনার্জি প্রদান করে যা দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া আখের রস শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। 

এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে আখের রস পানের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন কারণ এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে যা সবার জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে।অন্যদিকে ইফতারে ডাবের পানি পান করা শরীরকে হাইড্রেটেড বা সজল রাখার অন্যতম সেরা মাধ্যম। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে খনিজ লবণ বেরিয়ে যায় তার অভাব পূরণে ডাবের পানি অসাধারণ কাজ করে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ডাবের পানি অত্যন্ত আরামদায়ক। আখের রস বেশি পরিমাণে পান করলে অনেক সময় পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে কিন্তু ডাবের পানি তুলনামূলক হালকা এবং সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না।যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ডাবের পানি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। 

তবে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে যদি তাৎক্ষণিক শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয় তবে আখের রস চমৎকার কাজ করে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন যে ইফতারের শুরুতে সরাসরি অনেক বেশি মিষ্টি পানীয় পান না করে প্রথমে সাধারণ পানি বা ডাবের পানি দিয়ে রোজা ভাঙা পেটের জন্য বেশি স্বস্তিকর। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। সার্বিকভাবে রমজানে সুস্থ থাকতে কৃত্রিম কোমল পানীয় বর্জন করে এই ধরনের প্রাকৃতিক পানীয়র ওপর নির্ভর করা শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনে।