এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
হাম একটি সংক্রামক রোগ যা শরীরে মারাত্মক দুর্বলতা তৈরি করে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ এবং অনবরত কাশির কারণে রোগী শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এই সময়ে শরীরকে দ্রুত সচল করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করা সম্ভব হলে হামের জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে এই সময়ে পাঁচটি বিশেষ পানীয় রোগীর জন্য জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।প্রথমেই আসে ডাবের পানির কথা যা প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের অন্যতম উৎস।
হামের কারণে শরীর থেকে যে খনিজ উপাদান হারিয়ে যায়, ডাবের পানি তা দ্রুত পূরণ করতে সক্ষম। এটি কেবল শরীরের পানিশূন্যতাই দূর করে না বরং অভ্যন্তরীণ শক্তি জোগাতেও সাহায্য করে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে হাম আক্রান্ত রোগীকে প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দুই গ্লাস ডাবের পানি পান করানো উচিত। এটি রোগীর ক্লান্তি ভাব দূর করে তাকে সতেজ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুর শরবত এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। লেবু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে যা ভাইরাসজনিত রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস এবং সামান্য মধু মিশিয়ে পান করলে গলা ব্যথা ও কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরের টক্সিন বের করে দিতেও বেশ কার্যকর। এর পাশাপাশি তাজা ফলের জুস যেমন কমলা, মাল্টা বা পেঁপের রস শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।
পুষ্টির চাহিদা মেটাতে গরম সবজি বা চিকেন স্যুপের কোনো বিকল্প নেই। গরম স্যুপ গলায় আরাম দেওয়ার পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। বিশেষ করে সবজি স্যুপ হাম পরবর্তী জটিলতা এড়াতে এবং রোগীকে অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী করতে সহায়ক। তবে যদি রোগী অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে বা বারবার বমি ও পাতলা পায়খানার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত ওআরএস বা খাবার স্যালাইন পান করানো উচিত। এটি শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রোগীকে রক্ষা করে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রকোপ এবং শিশুদের মৃত্যুর সংবাদ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যথাযথ বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ঘর পরিষ্কার রাখা এবং রোগীকে সবসময় আরামদায়ক পরিবেশে রাখার পাশাপাশি এই পানীয়গুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে হামের ধকল কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সহজ হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করা যাবে না এবং পরিস্থিতি জটিল হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন