শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়। গত ৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে। 

বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে বড় ধরণের শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ১৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হওয়া মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দিনে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮৭ জন শিশু। 

এর মধ্যে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪২ জনের শরীরে। বর্তমানে দেশে মোট হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪১ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ২৫১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।হাসপাতালগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। আক্রান্ত শিশুদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

তবে এর মধ্যেও আশার কথা হলো, এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৮০১ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অতি সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত একজনের থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার ইতিমধ্যেই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জনসচেতনতাই এই রোগের বিস্তার রোধে প্রধান হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।