বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশে হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৭৮

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

দেশে হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৭৮

হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশু

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৭৮ জন শিশু। শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে ১২৭ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ১ হাজার ১১৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরবরাহকৃত তথ্যের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে এই রোগের বিস্তার বাড়তে শুরু করেছে। সেই সময় থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামের কারণে ৩৭ জন এবং সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

অর্থাৎ এক মাসের কিছু বেশি সময়ে দেশে হামের প্রকোপে মোট ২১১ জন শিশু প্রাণ হারাল। আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৯২ জনের শরীরে নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ২১ হাজার ৪৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যানুযায়ী, সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই বিভাগে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। 

অন্যদিকে, মৃত্যুর হার বিশ্লেষণে বরিশাল বিভাগে শিশুদের প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি যা মূলত সময়মতো টিকাদান না করার ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি ও চামড়ায় লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি শিশুকে সঠিক সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং হাসপাতালের বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।