মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
কাতারের রাস লাফান শিল্প শহরে অবস্থিত বেশ কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন স্থাপনায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ভোরে এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে কাতারএনার্জি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় এই জ্বালানি কোম্পানিটি জানিয়েছে যে হামলায় স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আগুন নেভাতে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ইরান থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে রাস লাফান বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই কৌশলগত অবস্থানে হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার ধরন এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের সক্ষমতা যাচাই করছে কাতারের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।এই হামলার পর কাতারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে ইরান এই হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সব ধরনের কূটনৈতিক সীমা লঙ্ঘন করেছে।
বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও না বাড়িয়ে তা প্রশমনের জন্য ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে কাতার সরকার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই অঞ্চলে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে চলমান হুমকির প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী কাতারকে লক্ষ্যবস্তু করা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন