সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরাইলি হামলায় ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী খতিব নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

ইসরাইলি হামলায় ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী খতিব নিহত

মন্ত্রী ইসমাইল খতিব

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ এক হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে একটি কাপুরুষোচিত কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। 

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে দাবি করেছিল যে গত মঙ্গলবার রাতে তেহরানে ইসমাইল খতিবকে লক্ষ্য করে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয় এবং সেই অভিযানেই তিনি প্রাণ হারান। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় ইসমাইল খতিবের পাশাপাশি অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

বিবৃতি অনুযায়ী ইসমাইল খতিবের মৃত্যুর আগে আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইরানি নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি। 

এছাড়াও চলমান এই আগ্রাসনের শুরুর দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহের মৃত্যুর খবরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ইসমাইল খতিব ২০২১ সাল থেকে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মেয়াদে তিনি নিযুক্ত হন এবং পরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ক্ষমতায় এলেও তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখেন। সাধারণত নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে গোয়েন্দা প্রধানের মতো পদে পরিবর্তন আনা হলেও খতিবের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেছিল।

ইসমাইল খতিবকে ইরানের রাজনৈতিক মহলে একজন কট্টরপন্থী এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে খতিব পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তেহরানে খতিবের বাসভবন বা অবস্থানের ওপর এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী খতিবকে হত্যার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার দাবি করেছে। এই উচ্চ পর্যায়ের হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার শত্রুতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।