মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
কাতারের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় বুধবার এই হামলার পর বৃহস্পতিবার ভোরে কাতারএনার্জি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাস লাফান ছাড়াও আরও বেশ কিছু এলএনজি স্থাপনায় নতুন করে আঘাত হানা হয়েছে।
এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পুরো অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তেহরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল। সেই হুমকির তালিকায় কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান রিফাইনারি ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম ছিল।
হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। এই ঘটনাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে দোহা। এর প্রতিক্রিয়ায় কাতার সরকার তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সপরিবারে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। ম্যাক্রোঁ যেকোনো মূল্যে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বিশেষ করে জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। জার্মানি, জাপান, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো যারা এলএনজি আমদানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কাতার ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ১৩টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে আমিরাতের হাবশান গ্যাস কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান হুমকি ও হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন