মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে কাতারনির্ভর দেশগুলো বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান `কেপলার`-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ তার মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই কাতার থেকে আমদানি করে। ফলে কাতারের প্রধান এই গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কেন্দ্রে হামলা বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড এবং উৎপাদনশীল খাতের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কাতার এনার্জি পরিচালিত রাস লাফান স্থাপনাটি দেশটির প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করার একমাত্র কেন্দ্র। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি এলএনজি উৎপাদন সাময়িক স্থগিত রাখলেও সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।
কেপলার ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যমতে পাকিস্তান তাদের এলএনজি চাহিদার ৯৯ শতাংশ এবং ভারত ৪০ শতাংশের বেশি কাতার থেকে সংগ্রহ করে। ফলে এই হামলার প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ওপর নয় বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর আঘাত হেনেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন রাস লাফান স্থাপনায় যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে করে বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয়।
পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে লোডশেডিং বৃদ্ধির পাশাপাশি তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য বিকল্প উৎস খোঁজা এখন সময়ের দাবি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা দুঃসাধ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন