মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি ইরানের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায়, তবে তেহরান পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে নৌ-মাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে এ ধরনের পদক্ষেপ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে শত্রুপক্ষ যদি ইরানের ভূখণ্ড লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে তবে তার জবাবে পুরো উপসাগরের প্রবেশপথ ও যোগাযোগ লাইনে মাইন পেতে দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনায় উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক নৌ-মাইন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ইরান নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে এমন পরিস্থিতিতে সমগ্র পারস্য উপসাগর দীর্ঘ সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালীর মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে যার ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রুটগুলো অচল হয়ে পড়বে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে এই ধরনের পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে হামলাকারী পক্ষকে বহন করতে হবে। প্রতিরক্ষা পরিষদ আরও উল্লেখ করেছে যে যেসব দেশ এই সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় তাদের জন্য পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করার একমাত্র উপায় হবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করা। এই হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথগুলোতে চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর যৌথ বিমান হামলা চালানোর পর থেকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন শীর্ষ নেতা আলী খামেনিসহ এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে। এর আগে প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরাইল, জর্ডান ও ইরাকসহ মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন এই মাইন পাতার হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন