এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:২২ এএম
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শেষে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলোতে তেহরান রাজি না হওয়ায় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন যে, আলোচনায় বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও এখনও দুই থেকে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইসমাইল বাঘাই বলেন, দীর্ঘ ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত অবিশ্বাস ও সন্দেহজনক পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশ আলোচনায় বসেছিল।
তার মতে, মাত্র একটি বৈঠকের মাধ্যমেই সব জটিল সমস্যার সমাধান করে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না এবং এমন প্রত্যাশা করাও স্বাভাবিক নয়। বাঘাই আরও উল্লেখ করেন যে, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। তিনি ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত ও অবৈধ শর্তারোপ থেকে বিরত থাকার এবং ইরানের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সংবাদ সম্মেলনে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।
তেহরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের রেশ ধরেই এই কূটনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও দীর্ঘ ২১ দিনের সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল, যার পর ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়।উল্লেখ্য যে, গত ৭ এপ্রিল কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই পক্ষ সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানে এই সরাসরি আলোচনার আয়োজন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলোচনার টেবিলে লেবানন সংকট ও ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরতের মতো বিষয়গুলো থাকলেও মূল বিরোধ আটকে আছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মৌলিক শর্তগুলোতে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে এই সরাসরি সংলাপ কোনো ফল না আনলেও এটি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতের আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বর্তমানে বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টেই রয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন