এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারের কাছ থেকে অবৈধভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটি স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী ভারতের কোনো জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরণের অর্থ বা শুল্ক গ্রহণ করা হয়নি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দেশটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি।
রাষ্ট্রদূত ফাতহালি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা কোনো টোল নিয়েছি কি না, তা আপনারা সরাসরি ভারত সরকারকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন।” মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক চরম হুঁশিয়ারির পর ইরানের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এলো।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, যেসব দেশ বা জাহাজ ইরানকে চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধ করবে, তাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে ভারত-ইরান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, ইরানের এই মন্তব্য তা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।মোহাম্মদ ফাতহালি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কঠিন সময়েও ভারত ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ইরান ও ভারতের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা।”
তেহরান মনে করে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নয়াদিল্লির সঙ্গে তাদের এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, ভারত সরকারও বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী তাদের কোনো জাহাজ নিরাপদে বের হওয়ার জন্য ইরানকে কোনো টোল প্রদান করেনি।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। ইরান-সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভারতীয় বাণিজ্য জাহাজগুলো বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১৫টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন স্থানে আটকে রয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন ‘নৌ নিরাপত্তা মিশন’ নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহে যৌথ বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশ দুটি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বের টুইটার) জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই মিশনটি হবে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ এবং এটি কোনো যুদ্ধরত পক্ষের হয়ে কাজ করবে না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যে ধস নামছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই জলপথ নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন