মে ১, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। শুনানিতে আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্থিতিশীলতা এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক পোস্টগুলো নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সারা জ্যাকবস ট্রাম্পকে “কমান্ডার ইন চিফ” হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে উপযুক্ত কি না—তা জানতে চান। হেগসেথ এ সময় সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া বিরোধিতা করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী দ্রুত প্রেসিডেন্টের সমর্থনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও কি চার বছর ধরে একই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল কি না।
এর জবাবে জ্যাকবস জানান যে জো বাইডেন এখন আর ক্ষমতায় নেই এবং ট্রাম্প গত দেড় বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। এই পর্যায়ে হেগসেথ কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বলেন, আপনি কমান্ডার ইন চিফকে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, আমি সেই পর্যায়ে তর্কে জড়াব না। পরে তিনি আরও যোগ করেন যে ট্রাম্প একজন অসাধারণ কমান্ডার ইন চিফ, যিনি সৈন্যদের স্বার্থকে সবার আগে দেখেন।
কংগ্রেসের এই শুনানিতে শুধুমাত্র মানসিক সুস্থতা নয় বরং ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। হেগসেথ জানান যে প্রস্তাবিত প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে, আধুনিক অস্ত্র উন্নয়ন এবং সৈন্যদের জীবনমান উন্নত করতে ব্যয় করা হবে। এ সময় তিনি ইরান নীতির বিষয়েও প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কথা আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেন।
উল্লেখ্য যে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে তাঁর কঠোর হুমকি এবং এআই-নির্ভর বিতর্কিত কিছু ছবি প্রকাশ পাওয়ায় তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এই পোস্টগুলোর সময় ও বিষয়বস্তু নিয়েই ডেমোক্র্যাটরা এখন হেগসেথের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন