মে ৩, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস—কার হাতে যাচ্ছে বঙ্গ মসনদ, তা নিয়ে এখন ওপার বাংলার পাশাপাশি এপার বাংলাতেও টানটান উত্তেজনা চলছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকেই ভোট গণনা শুরু হবে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং এরপর ধাপে ধাপে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ভোট গণনা করা হবে। এবার নির্বাচন কমিশন গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৭৭টিতে নামিয়ে এনেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই স্ট্রং রুমের বাইরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তৃণমূল ও বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে পাহারায় রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যেন একটি ভোটও কারচুপি না হয়।
গণনাকেন্দ্রের বাইরে কয়েক হাজার কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও জয়ের বিষয়ে সমান আত্মবিশ্বাসী এবং তাদের কর্মীরাও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতির মেরুকরণের এক বড় পরীক্ষা। বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে জয় পেতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ তত্ত্বে ভর করে দিদির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চেয়েছে।
এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার এবং নারী ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তা এখন বড় প্রশ্ন।অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া বা সি-ভোটারের মতো পরিচিত জরিপকারী সংস্থাগুলোও এবার নিশ্চিত করে কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছে না। ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া নাকি মমতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা—শেষ পর্যন্ত কোনটি জয়ী হবে তা নিয়ে সমীক্ষকরা দ্বিধাবিভক্ত। সোমবার দুপুরের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন