সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে ইরানের তৈরি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র খেবার শেকান। ফারসি ভাষায় এর অর্থ ক্যাসেল ব্রেকার বা দুর্গ ধ্বংসকারী। সম্প্রতি এ অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে এই প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহারের পর থেকেই অস্ত্রটির কার্যক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এটি অত্যন্ত দ্রুত নিক্ষেপ করা যায়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আনা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় এক হাজার চারশত পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি চারশত ঊনপঞ্চাশ থেকে পাঁচশত নব্বই কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে। প্রচলিত তরল জ্বালানির দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাত্র কয়েক মিনিটের প্রস্তুতিতেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুড়ে দেওয়া সম্ভব।
ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে আগাম শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। চলমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের সামরিক স্থাপনায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির পাশাপাশি শাহাব-তিন, সোমার এবং এমাদের মতো একাধিক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত রেখেছে তেহরান।
এ ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো কৌশলগত অবস্থানে পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও পড়ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন