মে ১০, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে `লেথাল ওয়েপন` বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে `সোজা গুলি করার` নির্দেশ দিয়েছিলেন। রোববার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যকার কথোপকথনে এই নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সেখানে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তার নির্দেশনা দেওয়া আছে এবং যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই যেন সোজা গুলি চালানো হয়। একজন সরকারপ্রধান হিসেবে এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই সময় ফাইয়াজ নামের এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যা পুরো বাংলাদেশকে আবেগাপ্লুত করেছিল।
মোহাম্মদপুরের এই মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সব তথ্য পর্যালোচনা করে মামলার ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন।
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদপুরের এই ৯ হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে আগামী ৮ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। প্রসিকিউশন আশা করছে, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত ডিজিটাল এভিডেন্স এবং কথোপকথনের রেকর্ডগুলো আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন