নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার দিন ধানমণ্ডি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া।
সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই তাকে দোষারোপ করছেন। এবার তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত শিক্ষিকা ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে মোনামি রাফিয়ার পক্ষ নিয়ে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। মোনামি লেখেন, “সত্যি কথা বলতে কী, তাকে এতটা টার্গেট করা হচ্ছে মূলত এই কারণে যে, সে দৃশ্যমানভাবে নিজের বিশ্বাস, নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে ধারণ করে চলেন বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা তথাকথিত 'সুশীল' সমাজের সমালোচনা করে লেখেন, ঠিক একই রকম দৃঢ়তা, প্রতিরোধ, প্রতিবাদ কিংবা ভাষা যদি কোনো হিজাববিহীন মেয়ের কাছ থেকে দেখা যেত, তবে আমাদের তথাকথিত ‘সুশীল’ মহল আজ তার দারুণ সাহসী অবস্থান বলে বাহবা দিত, স্ট্যাটাস দিত, এবং ক্ষমতায়নের উদাহরণ বানিয়ে ফেলত।তিনি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মোনামি লেখেন, উল্টো দিক থেকে, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, অসম্মানজনক এবং নির্যাতনমূলক।
কিন্তু, রাফিয়ার সেই অপমানজনক পরিস্থিতিতে সাহসী ও দৃঢ় জবাব দেওয়া—সেটিকে নারীর ক্ষমতায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র এই কারণেই পুলিশের আচরণকে অত্যাচার বা অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে না, কারণ রাফিয়ার স্বাধীনতার প্রকাশ বাংলাদেশে স্বীকৃত সেই সংকীর্ণ ও পছন্দ ভিত্তিক নারীর ক্ষমতায়নের (ফেমিনিস্ট এক্সপ্রেশন) ধারণার সঙ্গে মিলে না। শিক্ষিকা মোনামির এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং রাফিয়ার পক্ষে সমর্থন ও বিতর্ক উভয়ই তৈরি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন