শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের ভাইরাল ছবি নিয়ে যা জানা গেল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের ভাইরাল ছবি নিয়ে যা জানা গেল

সুমনের ভাইরাল ছবির সত্যতা

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জামিন পেয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকে ব্যারিস্টার সুমনের কারামুক্তির বেশ কিছু পোস্ট ও ছবি ভাইরাল হতে দেখা যায়। 

তবে অনুসন্ধানে দেশের মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে তার জামিন সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই সব পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছবিগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি অথবা পুরনো কোনো ঘটনার ছবি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর ও খিলগাঁও থানায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে আসামী করা হয়। 

গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার সুমন জেলগেটে গলায় ফুলের মালা পরে সমর্থকদের সাথে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে ছবিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, পেছনের ব্যানারে থাকা বাংলা বানানে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিতে এই ধরনের ভুল লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া হাইভ মডারেশনের মতো আধুনিক এআই শনাক্তকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিগুলো শতভাগ কৃত্রিম হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দেশের জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচিত ব্যক্তির জামিন নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর ফলে সাধারণ জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে আদালতের নথিপত্র বা কারাকর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার সুমনের মুক্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, জনমতকে প্রভাবিত করতে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেতে কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তার জামিন নিয়ে ফেসবুকে প্রচারিত দাবিগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। অসংলগ্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব ডিজিটাল কন্টেন্ট থেকে সাধারণ পাঠকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।