ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবশেষে তাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর ফলে নির্বাচনের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই ডিজিটাল সরঞ্জাম আর কোনো বাধা হয়ে থাকবে না।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার রাতে ইসি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল যেখানে প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সদস্য ছাড়া অন্য সবার জন্য ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাল্টিমিডিয়া ও মোবাইল সাংবাদিকরা সরাসরি বিপাকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘তথ্য পাওয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়।ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সাংবাদিকদের কাজের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকরা তাদের মোবাইল ফোন সাথে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন।
তবে ভোটকক্ষ বা গোপন বুথের ভেতরে লাইভ সম্প্রচার বা ভোটারদের গোপনীয়তা নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আগের নীতিমালা বহাল থাকবে।সচিবের এই আশ্বাসের পর সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে সংবিধানের পরিপন্থি বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সংশোধিত পরিপত্র জারি করে সকল রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন