রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু

সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে শুরু হয়েছে। গত ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এই বিশাল সংখ্যক অধ্যাদেশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সংসদের কাছে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়াই এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। 

বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে বর্তমানে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো গঠিত না হওয়ায় কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করা হবে। কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কোন অধ্যাদেশটি সরাসরি গ্রহণ করা হবে, কোনটিতে সংশোধনী আনা প্রয়োজন এবং কোনগুলো পুরোপুরি বাতিল করা হবে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সালাহউদ্দিন আহমদ গুরুত্বারোপ করেন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনমনে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সরকার তা আইনি প্রক্রিয়ায় ধারণ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারীদের আইনি সুরক্ষা বা ইনডেমনিটি প্রদানের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে। 

এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো বাতিলের বিষয়েও কমিটি দ্রুত একমত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে যেসব অধ্যাদেশ সহায়ক, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।সংসদীয় বিধি অনুযায়ী এই বিশেষ কমিটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। 

গত ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এর মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পাস করা না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা হারায়। সেই বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে এই বিশেষ কমিটিকে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৯ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনটি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে, যেখানে এই অধ্যাদেশগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন বা বাতিলের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।