এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে এই বাজারকে সব ধরনের সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত রাখার ব্যাপারেও কঠোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সোমবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মূলত সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ গ্রহণের পর মন্ত্রী সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাজারটি খোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ কর্মীদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যেন প্রকৃত কর্মীরা স্বল্প খরচে বিদেশে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছিলেন। মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
নিহতদের পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার দায়বদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজ ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে।
নিহত মামুনের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবন শেষে ঈদের এক মাস পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নতুন বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করা মামুন গত ৮ মার্চ ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে হামলার শিকার হন। সৌদি আরবের আল খারজ এলাকার একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার শরীরের প্রায় আশি শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। রিয়াদের একটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তা গ্রহণ করেন। সরকার নিহতের সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ দেখাশোনার ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন