রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে একটি মানবিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ শুরু করেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন। 

তাঁর মতে শহর ও গ্রাম উভয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। 

মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ—এই তিনটির সুস্থতা একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত বলে তিনি মনে করেন। এই সমন্বয় বজায় রাখতে তিনি ‘ওয়ান হেলথ’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণাকে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে বৈশ্বিক বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগাতে পারলে চিকিৎসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। 

সরকার এসব উন্নত প্রযুক্তি ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার এবং প্রসারে সব ধরনের উৎসাহ প্রদান করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাসী এবং স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে তাঁর প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোর উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এ ছাড়াও প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্য নথি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার করার মাধ্যমে সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি এসেছে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন, তবে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন করা সম্ভব হবে। বাণীর শেষে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।