শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

টেলিকম নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

টেলিকম নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

সংশোধন হচ্ছে টেলিকম নীতি

দেশীয় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং টেলিকম খাতে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫’ বড় ধরনের সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের জানান যে, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। 

মূলত অংশীজনদের তীব্র আপত্তি এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নীতিমালাটি প্রণয়ন করেছিল। 

ওই নীতিমালায় টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে মাত্র তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়। তবে চালুর শুরু থেকেই এটি বিতর্কের মুখে পড়ে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

এর ফলে বড় মোবাইল অপারেটররা টাওয়ার কিংবা ফাইবার নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামো ব্যবসায় সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যা ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে টেলিকম খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ রাজস্ব বড় অপারেটরদের দখলে, আর বাকি ২০ শতাংশের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে শত শত ছোট ব্রডব্যান্ড ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান।নতুন এই নীতিমালা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। 

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন যে, প্রযুক্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বড় কোম্পানিগুলো ছোটদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। বর্তমান সরকার সেই রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্বেগ আমলে নিয়েই সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেছেন, ফাইবার আউটপুট দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার যেন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের হাতেই থাকে, সেটি নীতিমালায় স্পষ্ট করতে হবে।

অন্যদিকে, ফাইবার অ্যাট হোম এবং সামিট কমিউনিকেশনের মতো এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনে করেন, বড় মোবাইল অপারেটররা যদি ভিন্ন নামে অবকাঠামো ব্যবসায় প্রবেশের সুযোগ পায়, তবে দেশীয় এনআইসিএসপি (NICS) লাইসেন্সধারীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তবে রবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢালাও পরিবর্তনের চেয়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা জরুরি। জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি ‘ক্লাস্টার’ গঠনের মাধ্যমে নীতিমালার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং সাধারণ গ্রাহক সঠিক মূল্যে উন্নত সেবা পায়।