রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কারাগারে থাকতে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কারাগারে থাকতে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নিজেকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারাগারে থাকার সময় তিনি কাছ থেকে দেখেছেন যে কেবল অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে বহু মানুষকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দি থাকতে হয়। 

তিনি মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বন্দিজীবনে এমন অনেক মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে যারা আইনি সহায়তা নিতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীন অবস্থায় আটকে ছিলেন।

বক্তব্যে তিনি সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটি জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের সপ্তম অনুচ্ছেদেরও প্রতিফলন। অর্থের অভাবে কেউ আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কর্তৃক লিগ্যাল এইড ফান্ড গঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তি সহজতর করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের বিষয় নয়, এটি একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রাকে সফল করতে হলে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সরকার বর্তমানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো নাগরিক যেন আইনজীবীর সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সবার জন্য ‘এক্সেস টু জাস্টিস’ নিশ্চিত করা যায়। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের অবহিত করেন। একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।