বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী

বগা ফেরিঘাট প্রাঙ্গণ

পটুয়াখালীর বাউফলের বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিবেশ বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সেতু পরিদর্শনের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর মন্ত্রী সরাসরি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালী জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন।ঘটনার বিবরণে জানা গেছে যে বগা ফেরিঘাট থেকে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দিতে সেতুমন্ত্রী ফেরিতে উঠেছিলেন। 

ওই সভার আয়োজন করেছিলেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। কিন্তু সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন এবং মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। 

একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে ঘিরে ফেলে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর অবরুদ্ধ করা হয় এবং নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী একই ফেরিতে করে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান।ঘটনাস্থলে পটুয়াখালীর সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। 

উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় সাধারণ সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে এই নদীতে বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের আমন্ত্রণে মন্ত্রী এই পরিদর্শনে এলেও নতুন এই ঘটনার পর সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।