জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায়ের মঞ্চ নয়, বরং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ভাষণ বা হুমকির গর্জন ছাড়াই ইরান পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে বিশ্বকে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। শোকের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
তেহরানে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠানে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা না দিয়ে নির্দিষ্ট কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যার প্রতিটিই ছিল ভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে এই অনুষ্ঠানে সূরা আলে-ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত শুনিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করেছে ইরান।
আয়াতে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে মৃত মনে করা যাবে না; বরং তারা নিজেদের রবের নিকট জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত। তারা আনন্দিত কারণ আল্লাহ তাদের অনুগ্রহ করেছেন এবং পেছনে থাকা জীবিতদের জন্য সুসংবাদ যে, তাদের কোনো ভয় বা চিন্তা নেই।
বাংলাদেশের জন্য এই আয়াত তেলাওয়াত ছিল এক অনবদ্য প্রতীকী স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব এবং জালিমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, ইরানের এই আয়াত তেলাওয়াত সরাসরি সেই শহীদদের আত্মত্যাগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক উচ্চতর আধ্যাত্মিক সম্মান এনে দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন