সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মানসম্মত শিক্ষার জন্য দরকার যোগ্য শিক্ষক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৫, ১০:৪১ এএম

মানসম্মত শিক্ষার জন্য দরকার যোগ্য শিক্ষক

ছবি - সংগৃহীত

মানসম্মত শিক্ষার মূল ভিত্তি হলেন যোগ্য শিক্ষক। এই সত্যটাকেই যেন আরো জোরালো করে তুলেছিলেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। যখন জার্মানির বিচারক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সর্বোচ্চ বেতনভোগী শিক্ষকদের সমতুল্য বেতন দাবি করেন, তখন ম্যার্কেল তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন: "যারা আপনাদের শিক্ষাদান করেছেন, তাদের সঙ্গে কীভাবে আপনাদের তুলনা করি?"এখানেই আসল কথাটা। শিক্ষক কোনো সাধারণ পেশাজীবী নন।

সংগত কারণেই শিক্ষকের সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা, যোগ্যতা ও দায়িত্বের বিষয়টি সবার আগে আসে। একজন আদর্শ শিক্ষককে হতে হবে গবেষণাধর্মী, সৃষ্টিশীল এবং তার চারিত্রিক দৃঢ়তা হতে হবে গ্রানাইট শিলের মতো কঠিন। তার নিরলস শ্রমশীলতা আর কর্তব্যনিষ্ঠাই শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উৎস।এখানে একটা জরুরি প্রশ্ন চলে আসে: শিক্ষকরা এই মহান পেশার প্রতি কতটুকু যত্নবান, কতটুকু নিষ্ঠাবান?

সুন্দর সমাজ, দেশ এবং গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য মেধাসম্পন্ন ও যোগ্য শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। তাই এই মুহূর্তে শিক্ষকদের আত্মবিশ্লেষণ করা খুবই দরকার।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৪৭ সালে ইউনেস্কোর এক সভায় বিশ্বের শিক্ষকদের জন্য একটি 'সনদ' প্রণয়নের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে শিক্ষা লাভকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অবশেষে, ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আইএলও’র উদ্যোগে শিক্ষকতা পেশার দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে ১৪৬ ধারা-উপধারাবিশিষ্ট একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়, যা 'শিক্ষক সনদ' নামে পরিচিত। এই সনদের বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।ইউনেস্কো গতিশীল মনের অধিকারী শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০২৫ সালের ৩১তম বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল বিষয় নির্ধারণ করেছে

‘Teachers: Leading in Crisis, Reimagining the Future’। এই দিনটিতে বিশ্বের সব শিক্ষকের মতো বাংলাদেশের শিক্ষকদেরও অতীতের অর্জন-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করে বিশ্বমানের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা।

১৯৭৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হলেও মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে ৯৫ শতাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা একসময় চরম মর্যাদাবঞ্চিত ছিলেন। তাদের জন্য ছিল না কোনো চাকরিবিধি বা বেতন স্কেল।এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণের প্রথম পদক্ষেপ আসে যখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেন (১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর)।

সেদিনকার সেই অর্জনের সিঁড়ি বেয়েই আজ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও'র মাধ্যমে জাতীয় বেতন স্কেলের ১০০ শতাংশ বেতনের অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে পাচ্ছেন।শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই বিশেষ দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জাতি গঠনের জন্য শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।এই আলোচনা আপনাকে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবতে সাহায্য করবে বলে আশা করি।